জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা।

জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা

 

জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা

 

জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীতা

গ্রীক মনীষী প্রেতো বলেছেন- “Music for Soul” খাদ্য যেমন দেহের ক্ষুধা নিবারণ করে শরীরের পুষ্টি সাধন করে। সঙ্গীত তেমনি আত্মার ক্ষুধা নিবারণ করে চিত্তকে সমুন্নত করে। মানুষের জীবন দর্শন, মানবাত্মার উদার প্রার্থনা মানবিকতার জয়গান সকলই সঙ্গীতের মাঝে একীভূত হয়েছে। প্রাণের সাথে সঙ্গীতের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-“সঙ্গীত একটি প্রাণধর্মী জিনিস এবং প্রাণের বিকাশ তার মধ্যে আছে”।

মানব জীবনে বিশেষত মানব মনের উপর সঙ্গীতের প্রভাব অপরিসীম। অস্থির অশান্ত মনকে সঙ্গীত সহজেই শান্ত করে দিতে পারে। মানব চিত্রের উপর সঙ্গীতের প্রভাব মাদকের ন্যায়। এই জন্য দেখা যায় যে, যাতা তাঁর শিশুকে ঘুম পাড়াতে গান গেয়ে থাকেন।

রোগ যন্ত্রণায় কাতর অসুস্থ্য ব্যক্তিও গান শুনতে শুনতে সাময়িকভাবে তার যন্ত্রণা কিছুটা হলেও বিস্তৃত হয়। সঙ্গীতের সাহায্যে রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থার উল্লেখ বাইবেলে আছে। সঙ্গীত ভীরু দুর্বল চিত্তকেও সাহসিকতায় উদ্বুদ্ধ ও সবল করে তোলে।

 

জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা

 

ভেরী নির্ঘোষ ব্যতীত সেনানী চালনার ব্যাপারে কল্পনাও করা যায় না। আবার সন্তোষ প্রকাশ করতে, আনন্দদান করতে এবং উপভোগ করতে সঙ্গীতেই শ্রেষ্ট মাধ্যম। বস্তুতপক্ষে শোকে, দুঃখে, আনন্দে সুখে জীবনে সব অবস্থায়, সঙ্গীতের ব্যবহার সভ্য, অসভ্য সকল মানব সমাজেই হয়ে থাকে।

যে ব্যক্তির চিত্তে দয়া, মায়া, স্নেহ, মমতা, প্রীতি, ভক্তি ইত্যাদি মানবিক গুণগুলো নেই, সে ব্যক্তিকে সঙ্গীত সামাজিক করে তুলতে পারে না। আর এজন্য ইংরেজ মহাকবি সেক্সপীয়র বলেছেন- “The man that hath no Music in himself, Let no such man be trusted”.

সুবিখ্যাত ঐতিহাসিক পুতার্ক উল্লেখ করেছেন যে, খৃঃ পূঃ ৪১৫ অব্দে এক দল এথেনীয় গ্রীক বন্দীকে শৃঙ্খলবদ্ধ করে যখন দাস শ্রমিক রূপে সিসিলির খনিগর্ভে এক প্রকার জীবন্ত মৃত্যুর সম্মুখীন করা হয়, তখন তাদের মধ্যে যারা সুমিষ্ট গীত গাইতে পারতো তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, কারণ ঐ গীত নিষ্ঠুর শাসকের পাষাণ হৃদয়কে দ্রব করেছিল ।

 

 

জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা

 

এই ঘটনা হতে প্রমান হয়, সঙ্গীত চিত্তকে হিংসা, দ্বেষ, ক্ষুদ্রতা, নীচতা প্রভৃতি মালিন্য হতে মুক্ত করে। এই জন্যই দেখা যায়, সকল ধর্ম সম্প্রদায়ের সাধকগণ তাদের চিত্তকে অহমিকাবোধ হতে মুক্ত করে ঈশ্বরমুখী করবার জন্য সঙ্গীতের আশ্রয় গ্রহণ করেন। বস্তুত কেবলমাত্র আমোদ লাভের জন্য নহে, জীবনকে সুস্থ ও সমুন্নত করে তোলবার জন্যই সঙ্গীতের বিশেষ প্রয়োজন আছে।

Leave a Comment