রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । শিল্পী জীবনী

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে ১২৬৮ সালের (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে) ২৫ বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর পৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবাড়ীর কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে প্রতিপালিত হলেও তৎকালীন শিল্পচর্চার পীঠস্থান ঠাকুর বাড়ির পরিবেশ এবং সুযোগ তাঁর প্রাতঃস্মরণীয় কবি প্রতিভার স্ফুরণ ঘটাতে সাহায্য করে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । শিল্পী জীবনী

কিশোর বয়সে তিনি বৈষ্ণব পদকর্তাদের অনুসরণে “ভানুসিংহের পদাবলী” লেখেন, এ ছাড়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাহিত্য সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর অজস্র সাহিত্য সৃষ্টি ভারত তথা পৃথিবীর অমূল্য সম্পদ।

প্রতিভা বোধহয় এমন একটা দুর্বার শক্তি, যা অর্গল বদ্ধ করে স্তব্ধ করা যায় না। তা আপন শক্তিতেই নিজের রাস্তা আপনা হতেই করে নেয়। তাই আমরা এই পৃথিবীর বুকে এমন অনেক প্রাতঃস্মরণীর মনীষী দেখতে পাই যাদের সাংসারিক কৌলিন্যের মাপ কাঠিতে সামাজিক বা অর্থনৈতিক স্থান ছিল অত্যন্ত গৌণ কিন্তু নিজ নিজ মহিমা ও পাণ্ডিত্যে তাঁরা আজ বিশ্বজন প্রণম্য।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এ রকম একটি জীবন্ত প্রতিভা, যিনি ঠাকুর পরিবারের শৈল্পিক পরিবেশ এবং পিতা দেবেন্দ্রনাথের প্রেরণায় বাল্যকাল হতেই আশুদিনের কবি রবীন্দ্রনাথের পরিচয় দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। এই প্রতিভা, সঙ্গীত যোগদান হেতু সঙ্গীত জগতে সম্পূর্ণ একটি নবদিগন্তের দ্বার উদ্ঘটাটিত হয়েছে, তা আজ সর্বজনস্বীকৃত ।

এইভাবে সঙ্গীত জগতের আকাশে ফুঠে ওঠে সেই সব ধ্রুবতারা, তাদের সঙ্গীতের সুর, ভাব এবং ভাষা মিশে থাকে মানুষের মনে স্বাভাবিক গতি নিয়ে। সঙ্গীত ভাবের গতিকে দুরন্ত করে তোলে এবং অজানা এক আনন্দে মন সহসা উদ্বেল হয়ে ওঠে।

কবির সঙ্গীত সৃষ্টি করার পেছনে আছে তাঁর ব্যক্তিগত গভীর ভাবনা এবং জগত ও প্রকৃতি সম্পর্কে এক নিবিড় মমত্ববোধ। এই ধারণাই কবিকে নিয়ে আসে তাঁর মহান সঙ্গীত জগতে। আমরা কবিকে দেখি, মানুষ ও প্রকৃতিকে একাকার করে ফেলেছেন আর ব্যাপ্তি ঘটেছে সেখানে প্রেমের। আর সেই প্রেম, প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

আমরা কবিকে সঙ্গীতে পেয়েছি মহান ঋষির মতন। তিনি বহুবিধ বিতর্কমূলক প্রবন্ধ, বিজ্ঞান আলোচনা, উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, নাটক, গীতিনাট্য নৃত্যনাট্য সৃষ্টি করে গেছেন। বসুধারার সঙ্গীতের ঝরণা তাঁর সঙ্গীতে স্থান পেয়ে এক অবিস্মরনীয় সুর-বৈচিত্র্যে ভাস্বর। তাঁর সৃষ্ট সঙ্গীত আজ সর্বজনাদৃত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে পরিচিত।

স্বাধীনতাকামী কবি পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তিকল্পে বহু দেশাত্ববোধক গান সৃষ্টি করে গেছেন যা, পরাধীন ভারতবাসীকে দেশপ্রেমে বিশেষ উদ্বুদ্ধ করেছিল। বৃটিশের ঘৃণ্য আচারণের প্রতিবাদে তিনি ইংরেজ সরকারের দেওয়া “নাইট” উপাধি পরিত্যাগ করতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করেন নি।

পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত আশ্রমকে তিনি লোকশিক্ষা এবং লোকহিতে “বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়”-এর রূপ দেন। কবি “গীতাঞ্জলী” কাব্যের জন্য ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ৫২ বৎসর বযসে পৃথিবী শ্রেষ্ঠ নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন।

১৩৪৮ সালের(১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ) ২২ শ্রাবণ কবি নশ্বরদেহ পরিত্যাগ করে অমৃতলোক যাত্রা করেন।

Leave a Comment