রাগ মারবা : সংক্ষিপ্ত পরিচয়

রাগ মারবা হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি অত্যন্ত গম্ভীর, সংবেদনশীল এবং সূক্ষ্ম রাগ, যা মারবা ঠাটের অন্তর্গত। এটি সন্ধিপ্রকাশ রাগ—অর্থাৎ দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণে, বিশেষ করে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে পরিবেশিত হয়। এই সময়ের আবহ—এক ধরনের অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও অন্তর্মুখী অনুভূতি—রাগ মারবার স্বরচরিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

এই রাগের জাতি ঔড়ব–ঔড়ব (খাড়ব–খাড়ব), অর্থাৎ আরোহী ও অবরোহী উভয় ক্ষেত্রেই পাঁচটি স্বরের ব্যবহার দেখা যায়। রাগটির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—পঞ্চম (পা) সম্পূর্ণ বর্জিত, যা এর স্বরসংগঠনে একটি বিশেষ শূন্যতা ও টান সৃষ্টি করে।

রাগ মারবায় কোমল ঋষভ (রে) এবং তীব্র মধ্যম (মা#) ব্যবহৃত হয়; বাকি স্বরগুলো শুদ্ধ। আরোহীতে নিষাদ (নি) বক্রভাবে প্রয়োগ করা হয়, যা রাগটির স্বরচালনায় একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। এই স্বরবিন্যাস রাগটিকে এক ধরনের টানটান ও অস্থির আবহ প্রদান করে।

বাদী স্বর ঋষভ (রে) এবং সমবাদী স্বর ধৈবত (ধা)। এটি পূর্বাঙ্গ প্রধান রাগ, যেখানে সা থেকে মা পর্যন্ত স্বরপরিসরে এর মূল গঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ন্যাস স্বর হিসেবে কোমল রে, গা এবং ধা গুরুত্বপূর্ণ।

রাগটির আরোহী সাধারণত “সা, রে (কোমল), গা, মা (তীব্র), ধা, নি, ধা, সা”—এইভাবে গঠিত, যেখানে ‘নি’ সরলভাবে না এসে বক্রভাবে ব্যবহৃত হয়। অবরোহীতে “সা, নি, ধা, মা (তীব্র), গা, রে (কোমল), সা”—এই সংক্ষিপ্ত চলনে রাগটির মূল চরিত্র ফুটে ওঠে।

এর পকড়—“ধা, মা (তীব্র), গা, রে (কোমল); গা, ধা, গা, রে (কোমল), সা”—এই স্বরচালনার মাধ্যমে মারবার স্বররূপ স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে কোমল রে এবং তীব্র মা-এর সংযত কিন্তু স্পষ্ট প্রয়োগ রাগটির আবেগ ও উত্তেজনা তৈরি করে।

রাগ মারবার প্রকৃতি চঞ্চল হলেও তা বাহ্যিক উচ্ছ্বাসের নয়; বরং এটি অন্তর্মুখী, টানটান এবং কখনো কখনো উদ্বেগময় অনুভূতি প্রকাশ করে। এতে স্বরের স্থিরতার চেয়ে সূক্ষ্ম টান ও মাইক্রোটোনাল চলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাগ মারবা

ব্যবহারিক স্বর- ইহাতে ঝা কোমল, হ্মা তীব্র ও বাকী সব শুদ্ধ স্বর ব্যবহার হয়। ‘পা’ বর্জিত। আরোহীতে ‘না’ বক্রভাবে ব্যবহার হয়। সায়ংকালীন সন্ধিপ্ৰকাশ রাগ । আরোহী- সা ঝা গা ক্ষা ধা না ধা র্সা। পকড়- ধা হ্মা গা ঝা, গান্ধা গা ঝা, সা

ঠাট মারবা

জাতি- খাড়ব খাড়ব

বাদীস্বর রেখাব (রা)

সমবাদীস্বর ধৈবত (ধা) অঙ্গ- পূর্বাঙ্গের রাগ ন্যাস স্বর- ঝা, গা ও ধা।

সময় দিনের শেষ প্রহর ।

প্রকৃতি- চঞ্চল

অবরোহী- সা না ধা, ক্ষা গা ঝাসা।

 

আলাপ ও স্বরবিস্তারঃ

১। সা, না, ধসা, নৃধা, ঝধ, ধন্‌ঝা, গাহ্মগঝস ।

২। সঝগদ্বধা, গধনধা, গহ্মনধা, ঝগঝহ্মধনধা, জগঝগা, ঝা, নন্দধা, ধা, ক্ষগঝা, জগঝসা ।

৩। ঝগঝা, গন্ধক্ষাগা, স্বাধধহ্মা, ধননধা, নধহ্মধন্ধনধা, গাধা, ঝগন্ধা, ঝগঝগা, ঋধা, গঝনা, স্বাগঝা, ব্ৰহ্মগা, নক্ষগাসা ।

 

॥ রাগ-মারবা। লক্ষণগীত। তাল ত্রিতাল ॥

স্থায়ীঃ রাগ মারবা কহত চতুর, রেখাব, মধ্যম বিকৃত মধুর।

অন্তরাঃ বাদী সমবাদী রে-ধা, বিবাদী পঞ্চম দিনের অস্তে গেয় পূর্বাঙ্গ প্রবল ।

 

তানঃ ৮ মাত্রার

১। ন্‌ঝা গহ্মা গঝা গন্ধা । ধহ্মা গহ্মা গঝা সা ।

২। গহ্মা ধনা ধর্সা নধা । গঙ্গা গহ্মা গঝা সা

৩। গহ্মা ধহ্মা নধা না । সনা ধহ্মা গঝা সা ।

৪। না না না ফর্সা । নধা কথা আগা ঝসা।

তানঃ ১৬ মাত্রার

১। ধহ্মা গহ্মা ধনা সা । না गা না । নধা ক্ষগা ঝগা ঝসা। ধ ধ ।

২। ন্‌ঝা গগা ঋগা ঝঞ্চা গা ধধা হৃধা আহ্মা গহ্মা ধনা ফর্সা নর্সা। নধা ক্ষধা হ্মা ঝসা ।

রাগ-মারবা। খেয়াল। তাল ত্রিতাল |

স্থায়ীঃ সুন সুন বতিয়া সগরী রতিয়া, উচট জিয়া মোরা ডর পাবে ।

অস্তরাঃ রহত অকেলী থর থর কাঁপে, জিয়রা উনবিন লরজন মোরা কাসে কহু সগরো দুখ পাবে।

 

তানঃ ৮ মাত্রার

ঝা গহ্মা গঝা গহ্মা । নধা ক্ষধা জগা ঝসা।

২। গা ধহ্মা নধা ধা । ননা ধক্ষা গগা ঋসা ।

৩। ঝা গহ্মা ধধা ক্ষধা । সনা ধন্ধা গা সা । ।

81 না না ধনা ধক্ষা । গহ্মা ধহ্মা গা সা ।

৫। না গা সর্না ধক্ষা । ধনা ধন্ধা গঝা সা।

তানঃ ১২ মাত্রার

ঝা গা গা গহ্মা । ধক্ষা গন্ধা নধা ক্ষধা । সর্না ধহ্মা গঝা সা গহ্মা ধধা আধা ননা । ধনা ফর্সা নর্সা না । যথা ক্ষগা গা সা ।

তানঃ ১৬ মাত্রার

১। ক্ষধা নধা গহ্মা ধক্ষা। ঋগা ক্ষগা নঝা গঝা। ক্ষগা ধক্ষা নধা না সেনা ধক্ষা গঝা সা ।

২। ধহ্মা গহ্মা গঝা সা সা ধহ্মা গঝা সা। ফর্সা নর্সা নধা ক্ষধা । ক্ষগা ক্ষগা ঝগা সা ।

 

॥ রাগ-মারবা । খেয়াল। তাল একতাল (বিলম্বিত )

স্থায়ীঃ ঝাঁঝন মোরা ঝনকাই ন সুনাই লোগবা পিয়া কাই মুখ দিখাই ঔর ।

অন্তরাঃ লে চলো নগরমে মৈ সুরঝন মিল বিছুরে আনন্দ করে।

 

বিলম্বিত তানঃ (৭ মাত্রা থেকে শুরু করতে হবে)

১। ধনা ধসন্‌ধা নৃঝগঝা নাসনা । অগক্ষধা নহ্মনা ধক্ষগহ্মা ধননা । ব্ৰহ্মগঝা ঝা গধনা কর্নধহ্মা । গন্ধধহ্মা গৰুগহ্মা ধধহ্মগা ঝসা ।

২। গা ধনা গর্বনিধা ক্ষনধহ্মা । গগঝধা ধহ্মগঝা ননধর্মা কর্নধথা । ক্ষগধা নাগঝা ননধা ক্ষধনা । নধক্ষনা ধক্ষগহ্মা ধহ্মগঝা নৃত্সা-1 ।

| রাগ-মারবা । তারানা। তাল ত্রিতাল

স্থায়ীঃ দিতা দিতা দেরে না দেরে না দেরে না । ওদি আনা না ওদিয়ানানা দেরে না দেরে না দেরে না । অন্তরাঃ তা নানা দিম্ দিম্ ধুমা ক‍ ধুমা ক‍ তাতা দিতা দিতা দেরে না দেরে না দেরে না।

Leave a Comment