হারমোনিয়াম ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকসঙ্গীতের একটি অপরিহার্য বাদ্যযন্ত্র। এর কোমল অথচ গভীর সুর সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। মূলত ১৯শ শতকে ইউরোপ থেকে ভারতে আগমন ঘটলেও খুব দ্রুতই এটি বাংলা, হিন্দুস্তানি, গজল, ভজনসহ নানা ধারার সঙ্গীতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হারমোনিয়ামের ব্যবহার প্রণালী বোঝা সহজ হলেও এর পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জনের জন্য ধৈর্য, চর্চা ও নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন।
হারমোনিয়ন বাজাতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এর কাঠামো—কীবোর্ড, বেলো বা হাওয়া চাপার অংশ, স্টপ বা রিড বোতাম ইত্যাদি। এরপর ধাপে ধাপে শেখা হয় কিভাবে সঠিকভাবে বেলো টেনে বা চাপ দিয়ে স্বর উৎপন্ন করতে হয়, কীভাবে আঙুলের অবস্থান রাখতে হয়, এবং স্বরলিপি মিলিয়ে সুর তোলা যায়। একজন শিক্ষানবিশ যেমন সহজ ভজন, রবীন্দ্রসঙ্গীত বা দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অনুশীলন শুরু করতে পারেন, তেমনি দক্ষ শিল্পীরা রাগ-ভিত্তিক জটিল আলাপ, তান ও তবলাসহ জটিল সঙ্গতও বাজাতে সক্ষম হন।
হারমোনিয়ন ব্যবহার প্রনালী

হারমোনিয়ম ব্যবহার প্রনালী
শিক্ষার্থীদের হারমোনিয়ম বাজানোর জন্য গায়ককে সোজা হয়ে বসতে হবে এবং এমনভাবে বসতে হবে যেন অনেকক্ষণ বসে থাকলেও কোন অসুবিধা না হয়। গান গাইবার সময় গায়কের উচিত যেন ভালভাবে মুখ খুলে গান করেন।
আলো বাতাস যুক্ত শান্ত সুন্দর পরিবেশ হলে গানও ভাল হবে। হারমোনিয়ম বাজানোর জন্য দুটি হাতই ব্যবহার করা প্রয়োজন। ডান হাতি শিক্ষার্থীরা বাম হাতে হারমোনিয়মের বেলো (Belo) এবং ডান হাতে রীড বা পর্দা (Reed) চেপে স্বর বাজাতে হবে।
বা-হাতি শিক্ষার্থীদের বেলায় উল্টো নিয়ম । রীডগুলো উপরে খুব আস্তে করে আঙ্গুল চালাতে হবে। হারমোনিয়ম বাজাবার সময় ডান হাতের কজি রীড বোর্ডের উপরে থাকবে। নিম্নে একটা ছবির সাহায্যে দেখানো হলো-

খেয়াল রাখতে হবে বৃদ্ধাঙ্গুলি কালো রীডের মধ্যে যেন পতিত না হয়। হারমোনিয়ম বাজাবার জন্য ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার সাথে তিনটি আঙ্গুলি ব্যবহার করা দরকার, শেষের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি ব্যবহার করার দরকার নেই।
হারমোনিয়ম বাজাবার সময় ডান হাতের কব্জি রীড বোর্ডের উপরে থাকবে, এ অভ্যাসটা গড়ে উঠলে দ্রুত আঙ্গুল পরিচালনা করা যাবে। হারমোনিয়মের রীডে বা পর্দায় আঙ্গুল চালনার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। এতে সহজে এবং দ্রুত আঙ্গুল চালনা করা যাবে।
‘বি’ ফ্ল্যাট বা ‘এ’ শার্প স্কেলে শুদ্ধ স্বরযোগে আরোহীতে আঙ্গুলের প্রয়োগ বিধি-

শুদ্ধ স্বরযোগে অবরোহীতে আঙ্গুলের প্রয়োগ বিধি-

আমরা বৃদ্ধাঙ্গুলিকে- ১ম, তর্জনীকে- ২য়, মধ্যমাকে- ৩য়, অনামিকাকে- ৪র্থ এবং কনিষ্ঠাকে- ৫ম আঙ্গুল ধরবো। যা নীচের ছবির সাহায্যে দেখানো হলো-

আরোহীতে যে আঙ্গুল যে পর্দা স্পর্শ করবে অবরোহীতে সেই আঙ্গুল সেই পর্দাই স্পর্শ করবে। প্রথমে এই নিয়মে আঙ্গুল চালনায় অসুবিধা লাগবে । পরে আঙ্গুলের সকল জড়তা কেটে যাবে। পরে যখন এ ব্যাপারে পারদর্শী হবে, তখন নিজের সুবিধামত বা দক্ষতা অনুসারে আঙ্গুল পরিচালনা করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।