রাগ কল্যাণ ও রাগ ইমন : সংক্ষিপ্ত পরিচয়

রাগ কল্যাণ হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাগ, যা কল্যাণ ঠাটের আশ্রয়ী। এই ঠাটের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র মধ্যম (মা তীব্র)–এর ব্যবহার, যা রাগটির স্বরসৌন্দর্যে এক বিশেষ উজ্জ্বলতা ও অলৌকিক আবহ তৈরি করে। রাগ কল্যাণকে অনেক সময় সন্ধ্যাকালীন রাগসমূহের ভিত্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

এই রাগের জাতি সম্পূর্ণ–সম্পূর্ণ, অর্থাৎ আরোহী ও অবরোহী উভয় ক্ষেত্রেই সাতটি স্বরের ব্যবহার দেখা যায়। রাগটির বাদী স্বর গান্ধার (গা) এবং সমবাদী স্বর নিষাদ (না), যা এর স্বরসংগঠনে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য সৃষ্টি করে। এটি মূলত পূর্বাঙ্গ প্রধান রাগ—অর্থাৎ সা থেকে মা পর্যন্ত স্বরপরিসরে এর চলন বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

রাগ কল্যাণের প্রকৃতি শান্ত, গম্ভীর এবং কিছুটা ভাবগম্ভীর। এর সুরের মধ্যে একধরনের প্রসারতা ও সৌম্যতা রয়েছে, যা রাত্রির প্রথম প্রহরের নির্জনতা ও প্রশান্তির সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। এই কারণেই এটি সাধারণত সন্ধ্যার পর, রাত্রির প্রথম প্রহরে পরিবেশিত হয়।

এই রাগে তীব্র মধ্যম (মা#) ব্যবহৃত হয়, এবং বাকি সব স্বর শুদ্ধ। তীব্র মধ্যমের সঠিক প্রয়োগ রাগটির প্রাণ—এটি কখনো হঠাৎ বা বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করা হয় না, বরং স্বরের প্রবাহের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত থাকে। ন্যাস স্বর হিসেবে রে, গা এবং পা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এসে রাগের বাক্যগুলি স্থিতি পায়।

রাগ কল্যাণ

ঠাট কল্যাণ

জাতি- সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ

বাদীস্বর- গান্ধার (গা)

সমবাদীস্বর নিষাদ (না)

অঙ্গ- পূর্বাঙ্গের রাগ

প্রকৃতি- শান্ত ও গম্ভীর

ন্যাস স্বর- রা গা পা ।

ব্যবহারিক স্বর- ইহাতে তীব্র মধ্যম (হ্মা) ও বাকী

সব শুদ্ধ স্বর ব্যবহার হয়।

সময়- রাত্রি প্রথম প্রহর।

আরোহী- না, রা, গা, হ্মা, পা, ধা, না, সা ।

অবরোহী র্সা, না, ধা, পা, ক্ষা, গা, রা, সা । 

পকড়- নরা গরা নূরা সা, পা ক্ষা গা বা সা ।

 

আলাপ ও স্বরবিস্তারঃ

ব্যবহারিক স্বর- ইহাতে তীব্র মধ্যম (হ্মা) ও বাকী

সব শুদ্ধ স্বর ব্যবহার হয়।

সময়- রাত্রি প্রথম প্রহর

আরোহী- না, রা, গা, হ্মা, পা, ধা, না, সা

অবরোহী র্সা, না, ধা, পা, ক্ষা, গা, রা, সা । পকড়- নরা গরা নূরা সা, পা ক্ষা গা বা সা ।

১। সা-, নগা, রগরা, নধরসা, ধরা, হ্মা-গা, গা-রা-, রসা।

২। পা-, া, ধনা-, রগা, ক্ষরগা, পরা, ধুনা, ব্রহ্মগা- গহ্মা পা, ক্ষগা, জগরা, না রা গা রা সা

৩। গরহ্মা-গা, গন্ধা ধা পা গা গা, হ্মা ধা না, ধা না বা পা, হ্মা হ্মা, রগন্ধা-, গা, গধপা, গন্ধপক্ষা, ব্রগহ্মা-গরা, নগা-, রা-সা।

৪। পা, হ্মা ধা না, ধা, হ্মা ধা না র্সা, না ধা না র্রা, সা-, গর্রর্সা-, নর্রা নধা, হ্মা, ধা, না রা র্গা-, বর্গা বনা, ধনা ধপা, ক্ষপা ক্ষগা, রগা রা না রসা ।

 

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

রাগ ইমন। লক্ষণগীত। তাল একতাল

স্থায়ীঃ সব গুণী জন ইমন গাত, তীবর সুর করত সাথ, সাসা রেরে গাগা মামা পাপা ধাধা নিনি রেরে, গারে সারে সানি ধাপা অন্তরাঃ সুর বাদী-গান্ধার সাধ, সমবাদী কর নিখাদ, রাত সময় প্রথম প্রহর চতুর সুজন মন রিঝাত।

 

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

তানঃ ৬ মাত্রার

১। নরা গহ্মা গরা । গক্ষা গরা সা

২। গহ্মা পধা না । পক্ষা গরা সা ।

৩। পহ্মা গক্ষা পধা। পক্ষা গরা সা।

৪। সনা ধপা নধা । পক্ষা গরা সा ।

তানঃ ১২ মাত্রার

১। নরা জ্ঞক্ষা পক্ষা গরা । গহ্মা পধা নধা পক্ষা

২। পদ্মা গহ্মা পধা নৰ্মা । বর্গা বসা নধা নরা

। নয়া পক্ষা গরা সা।

। সর্না ধপা ক্ষগা রসা।

 

রাগ ইমন। খেয়াল। তাল ত্রিতাল ॥

স্থায়ীঃ করনা হো শ্যাম মুসে বরজোরী, টীট লঙ্গর তোহে নিপট অনাড়ী ।

অন্তরাঃ কর জোরে বিনতি কর তোহে, সাস ননদী মোরি দেগি গারী।

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

তানঃ ৮ মাত্রার

১। নূরা গন্ধা গরা গহ্মা

2 । পক্ষা গরা নূরা সা।

পক্ষা গহ্মা পধা না । নধা পক্ষা গরা সা।

ননা ধপাসনা ধপা । ননা ধপা ক্ষগা রসা।

সনা ধনা সরা গরা। 

সনা ধপা ক্ষগা রসা ।

তানঃ ১২ মাত্রার

১। নূরা গহ্মা গরা সা । ননা ধপা রূপা গহ্মা । পনা ধপা ক্ষগা রসা।

২। গন্ধা ধপা না সর্না। রসা নধা পক্ষা গন্ধা । ধপা পা লাগা রসা ।

তানঃ ১৬ মাত্রার

১। না গহ্মা পধা নর্সা । গরা গরী সনা ধপা । নধা নবা পক্ষা গরা । গহ্মা পক্ষা গরা সা ।

২। পহ্মা গহ্মা পধা নর্সা। বর্গা রসা নধা নর্রা । সনা ধপা রূপা গহ্মা। পনা ধপা ক্ষগা ा ।

শুধু সার্গাম দিয়ে গাইতে হবে-

পক্ষা গরা গক্ষা পক্ষা। গরা সা ধা সা ধা রা রা গরা । গা পা রূপা গন্ধা। নিধা সনা বসা গরা । সর্না ধপা ক্ষগা রসা। গা ধন্য ধনা ধন सी ।

 

। রাগ ইমন । খেয়াল। তাল ত্রিতাল

স্থায়ীঃ গুরু বিনা ক্যায়সে গুন গাওয়ে, গুরু না মানে তো গুন নাহি আওয়ে, গুণীজন মে বেগুনী কহাবে। অস্তরাঃ মানে তো বিঝাবে সবকো, চরণ গহেসা দিবান কে জব আওয়ে অচপল তালসুর ।

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

রাগ ইমন। খেয়াল। তাল ত্রিতাল ॥

স্থায়ীঃ এরি আলি পিয়া বিনা সখি, কলন পরত মোহে ঘরি পল ছিন দিন।

অস্তরাঃ জবসে পিয়া পরদেশ গবন কিন, রতিয়া কাটাতা মোহে তারে গিন গিন ।

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

রাগ ইমন। তারানা। তাল ত্রিতাল ॥

স্থায়ীঃ না দের দের দের দৃম ভানোম্ তানা নানানানা দেরেনা তাদারে দানি দৃম দৃম তানানানানা ॥

অন্তরাঃ না দের্ দের্ দের তোম দের দের দের্ দের তোম্না দেরেনা আলালি আলম পিয়া ধিয়ানা তাধিয়ানা ধা কেটে তাক ধুমা কেটে তাক ধুমা কেটে গদি ঘেনে ধা, গদি ঘেনে ধা, গদি ঘেনে

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

| রাগ ইমন। খেয়াল। তাল একতাল (বিলম্বিত )

স্থায়ীঃ সেইয়া মনভাবে পিয়া মোরি ভুল গয়ে।

অস্তরাঃ আবন কহি গয়ে আজ হুনা আয়ে ক্যাসে কাটে দিন রাতিয়াঁ ।

জনক রাগের পরিচয়সহ সার্গামগীত,লক্ষণগীত,তারানা,ছোট খেয়াল ও বড় খেয়াল

 

বিলম্বিত তানঃ (৮ মাত্রা থেকে শুরু করতে হবে)

১। গগরসা নূরগহ্মা পক্ষগহ্মা গপপা । গন্ধগক্ষা পধপক্ষা গহ্মগহ্মা পধননা । ধপক্ষধা পক্ষগহ্মা পধনর্সা সনধপা। ঋধপক্ষা গরপহ্মা ধপক্ষগা রসসা ।

২। পক্ষগন্ধা পক্ষগহ্মা পক্ষগহ্মা পধননা । ধপক্ষধা পক্ষগহ্মা পধনর্সা ননধপা । হ্মধননা ধপধা পক্ষগরা গহ্মপক্ষা । গরগগা রসনা গন্ধপক্ষা গরসা -1।

Leave a Comment